আগামীকাল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রাধান্য পাবে সম্মেলন: নির্বাচন কোন্দল নিরসন

42
Social Share

এক বছর পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক বসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। দলের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা সম্মেলন, নারায়ণগঞ্জ সিটিসহ দুটি উপনির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে তৃণমূলের কোন্দল নিরসন গুরুত্ব পাবে বৈঠকে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন থেকে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় প্রধানের বার্তা নিয়ে মাঠে নামবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলীয় সূত্রমতে, করোনার কারণে গত এক বছর দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। মাঝে মধ্যে করোনার প্রকোপ কম থাকায় আবার সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপে করোনা শুরু হওয়ার পর আবারও দলীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এখন প্রকোপ কমে আসায় রাজনীতি তৃণমূলে নিয়ে যেতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। সামনে এক গুচ্ছ কর্মসূচি তথা দুটি উপনির্বাচন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং চার হাজার ইউপি ও পৌর নির্বাচন রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে জেলা-উপজেলায় ত্রি-মুখী কোন্দল নিরসনের চ্যালেঞ্জ। এসব মোকাবিলা করে আগামী বছরে ডিসেম্বর অথবা সুবিধামতো সময়ে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের জন্য তৃণমূলকে সাজানোর পরিকল্পনা আছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলতি বছরে স্থানীয় সরকারের অনেকগুলো নির্বাচন আছে। সামনে জাতীয় সংসদ    নির্বাচন এবং দলের জাতীয় সম্মেলন রয়েছে। এসব বিষয়গুলোকে সামনে রেখে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে পর্যালোচনা হবে বলে আশা করছি। একই সঙ্গে দলের ভিতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ ব্যাপারে দলীয় সভানেত্রী কোন্দল মেটাতে কঠোর অবস্থানে। নেত্রী যে বার্তা আমাদের দেবেন-তা বাস্তবায়নে মাঠে নামব।

দলীয় সূত্রমতে, আগামী বছর ডিসেম্বরে দলের জাতীয় সম্মেলন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে ত্রাণ নিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায় দলীয় নেতা-কর্মীরা। তবে স্থবির হয়ে পড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সে কারণে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন তিনি। বিশেষ করে কোন্দল নিরসনের জন্য দেবেন কঠোর বার্তা। ডিসেম্বরের মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করার টার্গেট দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘কভিডের কারণে দীর্ঘদিন আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কভিড যখন কমে আসে, তখন সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করি। আবারও বেড়ে যাওয়ায় স্থগিত করা হয়। এখন আবারও কমে আসায় আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রমকে জোরালো করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে ঢাকা মহানগরে ইউনিট সম্মেলন শুরু হবে। আমরা এখন সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে তৃণমূলে নজর দিয়েছি। বৃহস্পতিবার দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা দেবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।’ দলটির নেতারা বলছেন, এর বাইরে আগামীকালের বৈঠকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।