আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে বাংলাদেশের সব অর্জন: ফারুক খান এমপি

Social Share

গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ পৃথিবীর একমাত্র রাজনৈতিক দল যে দলের নেতৃত্বে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। স্বাধীনভাবে বসবাস করার জন্য একটি দেশ পেয়েছি এবং মাতৃভাষাকে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন  প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলে রূপান্তরিত হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তানের শাসন-নির্যাতন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, শোষণ-ব নার বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের সব আন্দোলন একপর্যায়ে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক খান এমপি বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়ের পথ ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে দলটি অগ্রসর হয়। ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় ও স্বাধীনতার সংগ্রাম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই গড়ে উঠে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে  ৭১ এ সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দেয়। বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন দেশে মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার মধ্যে তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। বাস্তবায়ন করেছিলেন অনেক অসাধ্য কর্মসূচির।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লে­খযোগ্য দিক হলো : মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ, স্বাধীন বাংলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ভারতীয় বাহিনীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন, ১৯৭৩ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন, পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন : বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরী মনোভাব নয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, হজে লোক প্রেরণ, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি, শিক্ষা কমিশন গঠন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা, বৈদেশিক বাণিজ্য শুরু।
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। দেশ পাকিস্তান পন্থার প্রতিক্রিয়াশীলতার আবর্তে ডুবে যেতে থাকে। সেই দুর্দিনে ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ফিরে এসে দলের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বেই দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার করে আবার উন্নতির অভিযাত্রা শুরু করে। জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তিনি শহর থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন। লড়াই করেছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম ক্ষমতায় আসে। এরপর ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে আবার সরকার গঠন করে টানা সাড়ে ১২ বছর ক্ষমতায়।

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব, লাখ লাখ নেতা-কর্মীর পরিশ্রম, মেধা ও ত্যাগের বিনিময়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উতরাই ও সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে উপনীত হয়েছে আওয়ামী লীগ।

ফারুক খান বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশিল দেশ। পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে। এখন সারা দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, রেল, নৌ ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের প্রায় সম-আয়তনের সমুদ্রসীমা অর্জন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের ছিটমহল সমস্যার সমাধান হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় শান্তিচুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন মহাকাশের অংশীদার। আকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার অবদান আজ আন্তজাির্তকভাবে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে তিনি শান্তি, গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়ন এবং দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে সৌভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য ভূষিত হয়েছেন মযার্দাপূর্ণ অসংখ্য পদক, পুরস্কার আর স্বীকৃতিতে।

তিনি আরও বলেন,  মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ নিযার্তনে আশ্রয়হীন ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তাদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে ‘বিশ্ব মানবতার বিবেক’ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদশির্তা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় দিন বদলের মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার সুনিপুণ কারিগর শেখ হাসিনা। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের  সিঁড়ি বেয়ে ৭১ বছর শেষ করে ৭২ বছরে পদার্পণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে জানাই অকৃত্রিম ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। ভালোবাসা জানাই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে।