অল্প পুঁজিতেই উদ্যোক্তা বানাচ্ছে ফেসবুক ভিত্তিক বাণিজ্যে

Social Share

বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারে ফেসবুক ভিত্তিক বাণিজ্য বা এফ-কমার্স। সামান্য কারিগরি দক্ষতা থাকলেই অল্প পুঁজিতে এফ-কমার্সের মাধ্যমে দেশে উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়। বর্তমানে দেশে প্রায় তিন লাখ এফ-কমার্স উদ্যোক্তা আছেন, যাঁদের অর্ধেকের বেশি নারী। এফ-কমার্স খাতের ক্রমবর্ধমান মানোন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে জাতীয় এফ-কমার্স সম্মেলন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উদ্যোক্তাদের এঞ্জেল ইনভেস্টরদের সামনে উপস্থাপন করতে এই সম্মেলনের আয়োজন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কেআইবি কমপ্লেক্সে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হলো এই সম্মেলন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রগ্রাম, বেসিস ও ই-ক্যাবকে সঙ্গে নিয়ে বিশেষায়িত ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি গিকি সোশ্যাল লিমিটেড এটি আয়োজন করে।

গতকাল সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিহাদ কবীর ও বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রডাক্ট এক্সিবিশন, এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য নলেজ সেশনে দুই হাজার দর্শনার্থী ও এক হাজার উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। এর আগে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় এফ-কমার্স সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ এফ-কমার্স উদ্যোক্তা আছেন, যাঁদের অর্ধেকের বেশি নারী।

দিনব্যাপী সম্মেলনে চারটি নলেজ সেশনে এফ-কমার্স শিল্পের মানোন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও সচেতনতা বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ইউটিউবারদের মতো ফেসবুকেও কিভাবে ভিডিও শেয়ার করে আয় করা যায় সেই দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও মেসেঞ্জার বট নিয়ে আলাদা সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের সিইও মাহাতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘রবি সব সময় পাশে আছে উদ্যোক্তাদের। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে উদ্যোক্তাদের ফান্ডিংয়ে সহযোগিতা করছে রবি। সারা দেশে অনেক উদ্যোক্তা সহায়ক প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। চোখ-কান খোলা রেখে সে সব সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

এসএসএলের সিইও আশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা অ্যাসোসিয়েশন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি সাম্য অবস্থায় এসেছি, যাতে এফ-কমার্স উদ্যোক্তারা সহনশীলভাবে ব্যাংক ট্রানজেকশন করতে পারেন, লোন ফ্যাসিলিটি উপভোগ করতে পারেন।’

আয়োজক প্রতিষ্ঠান গিকি সোশ্যাল লিমিটেডের সিইও মেহেদী হাসান সাগর বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, তরুণরা বড় একটা সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায়, সেটি নিছক বিনোদন। আমরা তাদের সামনে তুলে ধরতে চাই, কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ক্যারিয়ার গড়া ও উদ্যোক্তা তৈরি করা যায়। সেই লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হলো ন্যাশনাল এফ-কমার্স সামিট ২০১৯।’

সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, এসএমই ভাইর চিফ অপারেশন অফিসার সদরুল হাসান বলেন, ‘বেকার সমস্যা সমাধানে, আর্থ-সামাজিক অবস্থান পরিবর্তনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা এফ-কমার্সের বড় বাজার সৃষ্টি করেছে। এখন এর মানোন্নয়নে, কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে, বাজার প্রসারে এসএমই ভাই সব সময় উদ্যোক্তাদের পাশে আছে।’