‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে জনগণের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে’

44
Social Share

মহামারিজনিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা থেকে কার্যকরভাবে ঘুরে দাঁড়াতে জনগণের পেছনে বেশি বেশি বিনিয়োগ দরকার বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান।

আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১) ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান ইসলামের সভাপতিত্বে এই ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। এছাড়াও প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিতছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর এবং ড. মাশরুর রিয়াজ।

ড. আতিউর রহমান আরও বলেন যে, আগে থেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং ডিজিটাইজেশনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করায় করোনাকালে বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলক ভালো করেছে। দেশের সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুততম সময়ে খুবই দক্ষতার সাথে নিয়ম-কানুন শিথীল করা এবং বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে বাজারে তারল্যের সরবরাহ বজায় রেখেছে। তবে, তাঁর মতে, এক্ষেত্রে এই তারল্য যেন অনুৎপাদনশীল খাতে চলে না যায় সেদিকে কড়া নজরা রাখা দরকার। তা না হলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। ড. আতিউর সরকারের রাজস্ব নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতির ভেতর যে সু-সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে তার প্রশংসা করে আগামীতেও কৃষি, কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোগ, ডিজিটাল কমার্স এবং গার্মেন্টসহ রপ্তানীমুখী শিল্পে সমর্থন একই মাত্রায় অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নীতি-নির্ধারকরা যেন ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারকে উৎসাহিত করেন এবং এক্ষেত্রে সুষম প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে সদাসচেষ্ট থাকেন সে আহ্বানও তিনি জানিয়েছেন।

অবকাঠামো সব সময়ই প্রবৃদ্ধিকে তরান্বিত করে বলে ড. আতিউর মেগা-প্রকল্পগুলোসহ সকল অবকাঠামো প্রকল্পে নীতি-মনোযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এছাড়াও এক্ষেত্রে যেন পরিববেশবান্ধব সবুজ উদ্যোগগুলো যথাযথ অগ্রাধিকার পায় তা নিশ্চিত করা দরকার বলেও অভিমত দেন। সবশেষে তিনি বলেন যে, জনগণের পেছনে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সহজিকরণকে অগ্রাধিকার দেয়া একান্ত জরুরি।

প্যানেল আলোচনায় ড. আহসান মনসুর সকল পক্ষের মধ্যে সুষম প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি বিষয়ে ড. আতিউর রহমানের নীতি প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ড. মাসরুর রিয়াজ ছোট উদ্যোক্তাদের সমর্থন দেয়া, কর আহরণ সহজিকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহযোগিতা ও অংশিদারিত্ব বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে যথার্থ নীতি সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মশিউর রহমানও বাজারে তারল্যের সরবরাহ বজায় রাখার জন্য এবং বাজেট ঘাটতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হওয়ায় সরকারের প্রশংসা করেন।