অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক নায়করাজ রাজ্জাক

17
Social Share

রাজ্জাক; অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক। জন্ম কলকাতায় ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি। কিশোর বয়সেই কলকাতায় মঞ্চ নটকে জড়িয়ে পড়েন। কলেজে পড়ার সময় ‘রতন লাল বাঙ্গালী’ নামক ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৫৯ সালে বোম্বে গিয়ে ভর্তি হন ‘ফিল্মালয়ে’। কলকাতায় ‘পংকতিলক’ এবং ‘শিলালিপি’ নামে আরও দুটি ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৬৪ সালের দাঙ্গার সময় সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সহায়তায় যোগ দেন ইকবাল ফিল্মস্ লিমিটেড, হন পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারী (উজালা ছবিতে)। এরপর অনেক ছবির ছোটখাটো চরিত্র ও টিভি নাটকের অভিনয়। পরিচালক জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবিতে হন নায়ক। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রযোজক, পরিচালক, পরিবেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা চলচ্চিত্রকার চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে নায়করাজ রাজ্জাক একটি বিশিষ্ট সাড়া জাগানো নাম। শুরুটা নায়ক চরিত্রের মধ্যে দুঃখী, অভাবী মানুষের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। বাংলা চলচ্চিত্র ঙ্গনে নায়ক রাজ রাজ্জাকের অবস্থান অদ্বিতীয়। দেশ ছাড়িয়ে ভারতের মতো একটি দেশে নিমিষেই তার অবস্থান অদ্বিতীয়। দেশ ছাড়িয়ে ভারতের মতো একটি দেশে নিমিষেই তার অবস্থানও করেছেন সুদৃঢ়।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যেÑ আখেরী স্টেশন, কার বউ, ১৩ নশ্বর ফেকু, ওস্তাগার লেন, কাগজের নৌকা, ডাকবাবু, বেহুলা, পরওয়ানা, আনোয়ারা, আগুন নিয়ে খেলা, দুই ভাই, সংসার, নিশি হলো ভোর, আবির্ভাব, সখিনা, এতটুকু আশা, কুঁচবরণ কন্যা, সুয়োরানী দুয়োরানী, বাঁশরী, ময়নামতি, মনের মতো বউ, নীল আকাশের নিচে, আগন্তুক, শেষ পর্যন্ত, সমাপ্তি, ছদ্মবেশী, যোগ বিয়োগ, কত যে মিনতি, পিতাপুত্র, দর্পচুর্ণ, জীবন থেকে নেয়া, পীচঢালা পথ, আঁকা বাঁকা, ক খ গ ঘ ঙ, পায়েল, যে আগুনে পুড়ি, বড় বৌ, দীপ নেভে নাই, কাচ কাটা হীরে, টাকা আনা পাই, মেহেরবান, ঢেউয়ের পরে ঢেউ, মধু মিলন, অধিকার, স্বরলিপি, গায়ের বধূ, নাচের পুতুল, স্মৃতিটুকু থাক, মানুষের মন, প্রতিশোধ, জীবন সঙগীত এরাও মানুষ, ওরা ১১ জন, ছন্দ্র হারিয়ে গেল, চৌধুরী বাড়ি, অশ্রু দিয়ে লেখা, কমল রানীর দীঘি, অবুঝ মন, শপথ নিলাম, রংবাজ, অনির্বাণ, জীন তৃষ্ণা, আমার জন্মভূমি, অতিথি, কে তুমি, স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, শ্লোগান, এখানে আকাশ নীল, যাহা বলিত সত্য বলিব, প্রিয়তমা, পলাতক, ঝড়ের পাখী, খেলাঘর, চোখের জল, আলোর মিছিল, ভুল যখন ভাঙলো, বেঈমান, পরিচয়, অবাক পৃথিবী, ভাইবোন, বাদী থেকে বেগম, সাধু শয়তান, আলো তুমি আলেয়া, আপনজন, ডাকপিয়ন, অনেক প্রেম অনেক জ্বালা, উপহার, আঁধার পেরিয়ে, প্রতিনিধি, মায়ার বাঁধন, আকাক্সক্ষা, কী যে করি, স্মাগলার, গু-া, সেতু, অনুরোধ, আগুন, মতিমহল, অমর প্রেম, অনন্ত প্রেম (পরিচালনা) অনুভব, যাদুর বাঁশি, অঙ্গার, সোহাগ, অগ্নিশিখা, আসামি, পাগলা রাজা, বন্ধু, কাপুরুষ, বাজিমাত, অলঙ্কার, অশিক্ষিত, অনুরাগ, আয়না, জিঞ্জির, মাটির ঘর, নাগনাগিনী, ঘর সংসার, সোনার চেয়ে দামি, বদলা, অভিমান, রাজবন্দী, সোনার হরিণ, সখি তুমি কার, জোকার ছুটির ঘণ্টা, গাঁয়ের ছেলে, সংঘর্ষ, বৌরানী, নাগিন, আনারকলি, অংশীদার, রাজার রাজা, পুত্রবধূ, মৌচোর (পরিচালনা), মহানগর, ঘরনী, ভাঙ্গাগড়া, রাজনর্তকী, আল্লাহ মেহেরবান, রাজা সাহেব, সানাই আশার আলো, কেউ কারো নয়, চাঁদ সুরুজ, রজনী গন্ধা, নাত বৌধ, কাজল লতা, বড় ভালো লোক ছিল, বদনাম (পরিচালনা), কালো গোলাপ, লালুভুলু, লাইলী মজনু, ঝুমর, নাজমা, গাদ্দার শান্তি, নতুন পৃথিবী, তালাক, লালুভুলু, লাইলী মজনু, ঝুমর, নাজমা, গাদ্দার, শান্তি, নতুন পৃথিবী, তালাক, অভিযান, (পরিচালনা), বউ কথা কও, মায়ের আঁচল, গৃহলক্ষ্মী, চন্দ্রনাথ, সোনা বউ, অসাধারণ, চোর, সভাই (পরিচালক), আওয়ারা, ন্যায়বিচার, কাবিন, সোনালি আকাশ, অভাগী, ফুলশয্যা, তওবা, দ্বীন দুনিয়া, শুভদা, চাঁপাডাঙ্গার বউ (পরিচালনা), রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, সমর্পণ, সন্ধি প্রভৃতি।
ব্যক্তি জীবনের তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের গর্বিত বাবা। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র বানাতে তিনি ছিলেন অগ্রনায়ক। কোটি টাকার ফকিরসহ বেশ কয়েকটি ছবি নির্মাণে তিনি সফল। যোগ্য কাগজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দেশ-বিদেশে ঘুরে বেরিয়েছেন মুক্ত পাখির মতো। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করে মানুষের আরও মনের গভীর যেতে চান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আবদুর রাজ্জাক।