অভিজ্ঞতা, মেধা আর মনেবলে পরিপূর্ণ ড. ইনামুল হক

29
Social Share

বিশেষ প্রতিনিধি: অভিজ্ঞতা, মেধা আর মনেবলে যিনি পরিপূর্ণ তিনি ড. ইনামুল হক। পেশায় একজন অধ্যাপক হলেও নাটক পালগ মানুষ। জনাব হক-এর জন্ম ১৯৪৩ সারৈ ৭ মার্চ ফেনী জেলায়। পিতা প্রয়াত ওবায়দুল হক এবং মাতা রিজিয়া বেগম। স্ত্রী লাকী ইনাম প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী, নাট্যকার এবং নির্দেশক। ড. ইনামুল হক ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান), এমএসসি কনের এবং পিএইচডি করেন যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
বর্তমানে কর্মজীবন তার ব্যক্তিত্বকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তের বছর, প্রকৌশল অনুষদের ডীন সিন্ডিকেট মেম্বার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট মেম্বারও। ড. ইনামুল হক চলচ্চিত্রম ফিল্ম সোসাইটি, উদীচী শিল্প গোষ্ঠী, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি চলচ্চিত্র অনুদান কমিটির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির রেগুলেটরি কমিটির মেম্বার, ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলা একাডেমীর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
ড. ইনামুল হক দেশের বিশিষ্ট নাট্যকার, নাট্যশিল্পী ও নির্দেশক হিসেবেও পরিচিত। তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের সভাপতি। সুদক্ষণ এই অভিনেতার অভিনয় জীবন শুরু মঞ্চ দিয়ে। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সাল থেকে নিয়মিত মঞ্চে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রায় ৩০টি মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন এবং নির্দেশনা দিয়েছেন বারোটি নাটকে। তার অভিনীত নাটকগুলো হলো ম্যাক্সিম গোর্কীর ‘মা’, রক্তকবরী, মুক্তধারা, তাসের দেশ, অচলানয়তন, বিসর্জন, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, বিদগ্ধ রমণীকূল, ম্যাথবেথ, দেওয়ান গাজির কিস্সা, বাকী ইতিহাস প্রভৃতি। তার নির্দেশিত নাটক চিরকুমার সভা, বৈকুণ্ঠের খাতা, খোলস, জনতার রঙ্গশালা, ঘা প্রভৃতি। তার রচিত নাটকের মধ্যে গৃহবাসী, নির্জন সৈকতে, প্রতিধ্বনি প্রতিদিন, সৈকতে সারস, একটিতো জীবন, নায়লা ও নূপুর, কেবা আপন কেবা পর, অনুভবে অনুভূতি, দেয়াল, মহাকালের ঘোড় সাওয়ার উল্লেখযোগ্য।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধন হবার পর বিটিভি’র প্রথম নাটক ‘বাংলা আমার বাংলা’ তাঁরই রচনা। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ২১শ ফেব্রুয়ারির নাটক ‘মালা একশত মালঞ্চের’ও তিনি রচয়িতা। বাংলাদেশ বেতারের জন্যও তিনি লিখছেন শতাধিক নাটক। অভিনয় করেছেন পাঁচশত এরও বেশি নাটকে। নানাবিধ কাজে তিনি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ইন্ডিয়াসহ পৃথিবী বহুদেশ সফর করেছেন। নাগরিক নাট্যাঙ্গন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত নাট্যপত্র ‘শুধু নাটক’-এর সম্পাদক তিনি। তাঁর রচিত নাটক গৃহবাসী, নির্জস সৈকতে, বিজ্ঞানের কিছু কথা, পাঁচটি অনুবাদ নাটক’ বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। তার লিখা বহু বিজ্ঞানভিত্তিক প্রবন্ধ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি উপস্থাপক এবং তালিকাভুক্ত বিশেষ অভিনেতা, নাট্যকার। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় তিন হাজার টিভি নাটকে কাজ করেছে। তার উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ যেমন অয়োময়, শুকতারা, এইসব দিনরাত্রি, শান্তকুঠির, টু লেট, মৌচাকে ঢিল, ডাংগুলি, তরীক আলী হাডারী, স্বপ্নজাল প্রভৃতি। এই গুণী শিল্পীর চলচ্চিত্রের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দুরন্ত, আবর্তন আঁধিয়া, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীসহ স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ফিচার ফিল্মে সুনিপুণ অভিনয় করেছেন। তিনি বাচসাস, একতা নৃত্যকলা একাডেমী, অনিন্দ্য নাট্য গোষ্ঠী অ্যাওয়ার্ড, টেলিমিডিয়া পুরস্কার এবং ই.ই.পিসহ অসংখ্য অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। বই পড়ে টিভি দেখে আর আড্ডা দিয়ে অবসর সময় কাটাতে তিনি ভালবাসেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কাজ করে মানুষের ভালোবাসা পেতে চান, দেশ এবং দেশের মানুষের জন্যে কিছু দিয়ে যেতে চান।