অবশেষে নিরসন হচ্ছে ছাত্রদলে সংকট: ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যস্থতায় অবশেষে ছাত্রদলে সংকট সমাধান হচ্ছে। বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির ক্ষুব্ধ নেতারা ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

একই সঙ্গে তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন। দু-একদিনের মধ্যে বহিষ্কৃত ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

এছাড়া ছাত্রদলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গঠিত নির্বাচন পরিচালনাসহ তিন কমিটির পাশাপাশি আরও একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কথা ভাবছে দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

সদ্য সাবেক ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে এই আহ্বায়ক কমিটি হবে। যারা কাউন্সিলের কাজে তিন কমিটিকে সহযোগিতা করবেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংগঠনটির কাউন্সিল অন্তত এক সপ্তাহ পেছানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তফসিল অনুযাযী, ১৫ জুলাই কাউন্সিল হওয়ার কথা। গত ৩ জুন ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করে বিএনপির হাইকমান্ড।

এরপর থেকেই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা বয়সসীমা নির্ধারণ না করে স্বল্পমেয়াদি কমিটি গঠনের দাবিতে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে আসছিলেন।

২২ জুন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিএনপি আন্দোলনকারী ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করে। এরপর ২৪ জুন কার্যালয়ে ভাংচুর ও মারামারি হয় এবং কার্যালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এ রকম পরিস্থিতিতে ছাত্রদলে সংকট সমাধানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান।

দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা আন্দোলনকারীসহ ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। এতে সাবেক নেতারা এই তিন নেতার প্রতি আস্থার কথা জানান।

সংকট নিরসনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আশ্বাসে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সেখানে তারা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ছাত্রদলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে নয়াপল্টন কার্যালয় ও এর আশপাশে সংঘটিত কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে, মর্মাহত করেছে। এ ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। দলের অনুগত কোনো কর্মী এ ধরনের কাজ করতে পারে না। এলোমেলো পরিস্থিতির কারণে সুযোগ সন্ধানী স্বার্থান্বেষী মহল এমনটি করে থাকতে পারে।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ মতো দল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি দলের প্রতি অনুগত থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ মতো ভবিষ্যতে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, আবদুর রহিম হাওলাদার সেতু, বায়েজিদ আরেফিন, মোখতার হোসেন, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, সংবাদ সম্মেলনের পরপরই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে তারা মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসায় গিয়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন।

সিনিয়র নেতারাও বিগত দিনের আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভূমিকার জন্য মূল্যায়নের আশ্বাস দেন। শিগগিরই ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং তাদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়েও ইঙ্গিত দেন বিএনপির এই দুই নেতা।

ছাত্রদলের সাবেক একজন সহসভাপতি যুগান্তরকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টায় সংকট সমাধান সম্ভব হচ্ছে। তাদের মতো দলের সিনিয়র নেতারা এ বিষয়ে আরও আগে ভূমিকা রাখলে ছাত্রদলে সমস্যা এতদূর আসত না।

তিনি বলেন, আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে চাই। তাই তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সঠিক সময়ে ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে। নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে ২০০০ সালে এসএসসি পাসের বাধ্যবাধকতাও আমরা মেনে নিয়েছি। আমরা নির্বাচন পরিচালনাসহ তিন কমিটি মেনেই কাউন্সিল করতে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করেছি। সুতরাং আমাদেরকে নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকতে পারে না। আশা করছি সবাই মিলে ছাত্রদলের কাউন্সিল শেষ করব। এদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ছাত্রদলের সংকটকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলের প্রক্রিয়া এখনও স্থগিত রয়েছে। সমাধান হলে তফসিল অন্তত এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হতে পারে।