অনিদ্রার মধ্যেও থামেননি সমান্থা, মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতা ভাগ করলেন অভিনেত্রী

 

ভিনিউজ বিনোদন ডেস্ক: মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের প্রতিটি মুহূর্ত অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন ভারতের দক্ষিণী অভিনেত্রী সমান্থা রুথ প্রভু। গর্ভাবস্থার আনন্দের পাশাপাশি নানা শারীরিক পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জের কথাও অকপটে জানাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গর্ভাবস্থায় অনিদ্রার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে আবারও আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

গত ৯ জুলাই নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে জিমে যাওয়ার পথে তোলা একটি সেলফি পোস্ট করেন সমান্থা। ছবিতে তাঁকে রোদচশমা ও ওয়ার্কআউট পোশাকে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “অনিদ্রা তো খুব মজার, কিন্তু তারপরও আমরা জিমে যাচ্ছি।” সংক্ষিপ্ত এই বার্তার মধ্য দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও নিজের স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নন।

সমান্থার এই পোস্ট দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর ভক্তরা যেমন অভিনেত্রীর ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেছেন, তেমনি অনেক গর্ভবতী নারীও নিজেদের একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা মন্তব্যে তুলে ধরেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, গর্ভাবস্থায় অনিদ্রা একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ ক্লান্তিকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় অনিদ্রা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। শরীরে হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে প্রোজেস্টেরন ও ইস্ট্রোজেনের মাত্রার ওঠানামা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া শরীরের ওজন বৃদ্ধি, আরামদায়ক ভঙ্গিতে ঘুমাতে না পারা, বারবার প্রস্রাবের চাপ, কোমর বা পিঠে ব্যথা এবং অনাগত সন্তানকে ঘিরে উদ্বেগ বা মানসিক চাপও রাতের ঘুম ব্যাহত করতে পারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে যে কোনো ধরনের ব্যায়াম অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা প্রি-নেটাল যোগব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, শোবার আগে মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানোর অভ্যাস অনিদ্রার সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।

সমান্থা রুথ প্রভুর সাম্প্রতিক পোস্ট শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই নয়, বরং গর্ভাবস্থায় নারীদের একটি সাধারণ সমস্যার দিকেও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে তিনি দেখিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রেখে মাতৃত্বের এই বিশেষ সময়েও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্ভব। তাঁর এই বার্তা অনেক গর্ভবতী নারীর জন্য উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

পূর্বের খবর‘আর্জেন্টিনার সাফল্য কিছু মানুষের সহ্য হয় না’-কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সমালোচনার জবাবে প্রধান কোচ সরব স্কালোনি
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!