অনশনে অসুস্থ শ্রমিকরা, পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন কাল

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনটি রাজপথেই কাটছে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের। একই সাথে শ্রমিকরা বুধবার আমরণ অনশনের চর্তুথ দিন পার করেছে। ইতিমধ্যে রাজপথে অনশনে এসে বিকেল পর্যন্ত শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতাল ও স্থানীয় বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অনেক শ্রমিককে অনশনস্থলে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। কাল বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের সাথে পরিবারের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

সাধারণ শ্রমিক ও নেতারা বলেছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার শ্রমিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেননি। এর আগের একাধিক বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় তারা (শ্রমিক) সুনিদিষ্ট ঘোষণা ছাড়া আর বৈঠকে যেতে চান না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্দোলন যে অবস্থায় গিয়েছে, এখান থেকে ফিরে গেলে নেতাদেরই পিঠ বাঁচবে না। সাধারণ শ্রমিকরা নেতাদের বিশ্বাস করতে চাইছেন না। তাই আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, শীত ও ক্ষুধায় শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও প্রায় এক শ শ্রমিক অনশনস্থলে স্যালাইনসহ চিকিৎসা নিচ্ছেন। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত অথবা প্রত্যাহার করা হবে না। বৃহস্পতিবার পরিবার-পরিজন নিয়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া পাওনাসহ ১১ দফা দাবিতে খালিশপুরের ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকরা খালিশপুর বিআডিসি সড়কে, আটরা শিল্পাঞ্চলে ইস্টার্ন ও আলীম জুট মিলের শ্রমিকরা অনশনে অংশ নিচ্ছেন। আর যশোরের জে জে আই জুট মিলের ননসিবিএ নেতাদের নেতৃত্বে আংশিক শ্রমিকরা অনশনে অংশ নিচ্ছেন যশোরের রাজঘাট এলাকায়। সব মিলিয়ে খুলনা অঞ্চলের ৮টি পাটকলের শ্রমিকরা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন