অনলাইনে হয়রানির শিকার মেয়েরা আমাকে কানেক্ট করতে পারছে : মেহজাবিন

19
Social Share

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী নিজেও অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এক পর্ন তারকার ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয় মেহজাবিনের নাম। সেই সময়টা বুঝেছিলেন হয়রানির প্রতিটি মুহূর্ত কতটা যন্ত্রণার। সারারাত ঘুমাতে পারেননি। সে কষ্টটা, সে যন্ত্রণা এবার অনলাইনে তুলে ধরেছেন মেহজাবিন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ভাইরাল গার্ল নামে একটি নাটক। যেখানে তিনি খুব সুক্ষ্মভাবে নিজের অভিনয় কৌশল দেখিয়েছেন। মেহজাবিন বলছেন আমার অভিনয় হয়রানির শিকার মানুষদের কানেক্ট করছে বলেই হয়তো এতো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

সোমবার সকালে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে মেহজাবিন বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ১০ লাখ ভিউ হয়েছে সেটা বিষয় নয়, মানুষ যে নাটকটা দেখছে সেটা আলোচনার বিষয় হতে পারে। মানুষ নাটকের গল্পটা উপলব্ধি করতে পারছে। অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে যে কথা নাটকে বলা হয়েছে, যে বার্তা দেখানো হয়েছে তা যদি মানুষ উপলব্ধি করে করে জীবনে অ্যাপ্লাই করতে পারে তা হলো বুঝবো আমাদের কাজ স্বার্থক হয়েছে।

মেহজাবিনের অন্য একটি নাটকের শুটিং দৃশ্য

ফেক অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে সময়ে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বলেন,’ এখন মেয়েরা, তবে শুধু মেয়ে নয় ছেলেমেয়ে সকলেই অনলাইনে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এই জিনিসটা বন্ধ করতে হবে। আমাদের নাটকের গল্পটা সে জায়গায়, যদি কিছুটা বোঝাতে পারে। সতর্ক হবে। যারা ফেক অ্যাকাউন্ট চালান তাদেরকে বোঝানোর জন্যই এই নাটকটা।’

অল্পবয়সী মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে উল্লেখ করে মেহজাবিন বলেন, ‘আমরা সবাই জানি ভালো কি খারাপ কি। আমরা টার্গেট করে কাউকে নিচে নামানো পচানো, এই জিনিসগুলো রীতিমতো অনলাইনে হতে থাকে। শুধুমাত্র সেলেব্রেটিদের না, নরমাল স্কুলে পড়ছে- আমি দেখেছি খুবই অল্প বয়সী মেয়েদের সাথে এইসব ঘটছে, হ্যারাস করা, ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষের এইসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ।’

মানুষ দেখছে ভাইরাল গার্ল

নাটকের বার্তার ফলে সমাজে সাইবার ক্রাইম কমবে বলে মনে করেন এই তরুণজ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এইসব ক্রাইম যারা করছে, যাদের তাদের এসব ঘটছে- এসবের যে একটা শাস্তি আছে সেটাও বোঝানো হচ্ছে। আমাদের সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট কিন্তু দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। আগে যেমন ফেক আইডি দিয়ে কেউ হ্যারাস করা, কাউকে বাজে মেসেজ পাঠানো বা মানুষের কাছ থেকে টাকা চাওয়া স্পেশালি সেলেব্রেটিদের ক্ষেত্রে এটা অনেক ঘটে। এই যে ফেক আইডি বানানোর প্রবণতা যে এতোটা বেড়ে গিয়েছিল, আই হোপ এটা অনেকটা কমে যাবে।’

সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেহজাবিন বলেন, ‘আমি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই শুধু সেলেব্রিটি না অনলাইনে এখন অনেকেই হ্যারাসমেন্টের শিকার হচ্ছে। অনলাইনে যে ধরনের হয়রানি হয়, এটা আসলে মোটেও কাম্য নয়, ঠিক নয়। এই ধরনের হয়রানির শিকার হবে যারা তারা যেন সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহায়তা খুব সহজে নিতে পারে, এর পদ্ধতিগুলো খুব সহজ করে দেয়া দরকার। যেন একটা আস্থার জায়গা তৈরি হয়। কেউ হয়রানির শিকার হলেই যেন মনে করতে পারে এর প্রতিকার তিনি খুব সহজেই পাবেন। এছাড়া সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে হয়রানি থেকে নিয়মিত যদি উপদেশ বার্তা দেয়া হয় তাহলে হয়রানিও অনেকটাই কমে যাবে।’

মেহজাবিন অন্য একটি নাটকের দৃশ্য

সোশ্যাল প্ল্যাটফরমগুলো বানানোই হয়েছে ভালো কাজের জন্য। অথচ সেগুলো ব্যবহার করে মানুষ জন খারাপ কাজ করছে। আমরা চাই যে এই প্ল্যাটফরমগুলো সহজ ও ভালো কাজে ব্যবহার করা হোক। আমি কামনা করি অনলাইনটা প্ল্যাটফর্মটা সুস্থ হয়ে উঠুক। মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হোক। আমার নাটকটা এ কারণেই করা। যেহেতু ভালো রেসপন্স পাচ্ছি, সেহেতু এখন আমার চাওয়াটা ওটাই।

ভাইরাল গার্ল নাটকের একটি দৃশ্য

বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করেছেন মেহজাবিন। মানসিক ভারসাম্যহীন, ভিখিরি থেকে শুরু করে বহু বৈচিত্রময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন, কিন্তু এবার একজন ভাইরাল গার্ল চরিত্রে অভিনয় করে বেশি আলোচনায় আসছেন আপনি, কেন এটা?  প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আসলে নাটকটা এমন একটা বিষয়ে যেটা সকলের আলোচনার বিষয়। কমবেশি সবাই হয়রানির শিকার হয়। ধরেন একটা ফেসবুক পেইজের একটা ছবি পোস্ট করলে তার নিচে আজেবাজে মন্তব্যে ভরে যায়। একজন আরেকজনকে খোঁচা দেয়া, এক আরেকজনকে ওঠানো নামানো, কত সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম হয়রানি করা হয়, স্পেশালি মেয়েরা এই বিষয়টার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কানেক্ট করতে পেরেছেন। নিয়মিত এসব তাদের সঙ্গে ঘটতে থাকে। আমার মনে হয় সে জায়গা থেকে একটা বড়ো সাড়া পাচ্ছি। আসলে যতটুকু আশা করেছি তারচেয়েও বেশি পাচ্ছি।’