অনলাইনে আরো সক্রিয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

Social Share

বিশ্ব জুড়ে বিগত প্রায় এক বছর অধিকাংশ মানুষ রয়েছে অনেকটা গৃহবন্দী। বাংলাদেশে স্বল্প পরিসরে অফিস কার্যক্রম শুরু হলেও ঘরের বাহিরের জগত সম্পর্কে জানার জন্য বর্তমান সময়ে সবচাইতে বেশি ব্যবহার হচ্ছে মুঠোফোন। মানুষের এই চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই মহামারীর শুরু থেকে অনলাইনে বেশ সক্রিয় অবস্থানে ছিলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সচেতনতা সৃষ্টি, সঠিক তথ্য প্রদান, গুজব মোকাবিলা ও সরকারের বিভিন্ন দিক নির্দেশনার কথা কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন এই রাজনৈতিক দলটির ওয়েব টিম ও সিআরআই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কোভিড-১৯ কে ‘প্যানডেমিক’ ঘোষণার পাশাপাশি ‘ইনফোডেমিক’ হিসেবেও ঘোষণা করে। আর সে কারণেই মানুষকে সচেতন করতে করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে ১২ পর্বের অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠান ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ আয়োজন করা হয়। করোনা পরবর্তী সময়ের জন্য দেশের মানুষকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এই লাইভ অনুষ্ঠান দেখে প্রায় ১২ লাখের বেশি মানুষ।

শুধু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি নয়, বরং আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচার ও প্রোপাগান্ডা রুখে দিতেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়েব টিম।

সম্প্রতি হঠাৎ করেই গুজব শোনা যায় ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের একজন নেত্রী ভিপি নূর এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ভিপি নূরের সমর্থকদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয় ছাত্রলীগের মদদে এই ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এই মামলা দায়ের করেছেন, যে কখনই ছাত্রলীগের কোন পদে ছিলো না।

অক্টোবর মাসের ৩ তারিখ হঠাৎ গুজবে শোনা যায় সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর সমন্বয়কের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে তন্ময় আহমেদকে। যদিও সিআরআই সূত্র ও তন্ময় আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তেমন কোন বিষয়ে এখন পর্যন্ত কখন আলোচনাই করা হয়নি।

মার্চ মাসে প্রথম লকডাউন ঘোষণার পর ‘ঘর থেকে বাহিরে বের হওয়া মানুষদের পুলিশ লাঠিচার্জ করছে’ এমন কথা প্রচার হতে থাকে ফেসবুকে। পরবর্তীতে পুলিশ মাস্ক পরে মারধর করছে এমন ছবিও আসে ফেসবুকে। কিন্তু বিষয়টির খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফটোশপের মাধ্যমে পুরতান ছবিতে মাস্ক ব্যবহার করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

এ ছাড়াও খাদ্য না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবরও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ফেসবুকে। সেই সকল স্থানে প্রশাসন খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে, খাদ্যের অভাবে নয়, বরং বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে।

সাভারে এক নারী সন্তানের খাবারের দুধ যোগার করতে নিজের চুল বিক্রি করছেন এমন একটি সংবাদ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সংবাদটি ব্যবহার করে, অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেন করোনাকালে সরকারের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম বিষয়ে। এ ঘটনায় সেখানে পরদিনই প্রেরণ করা হয় সাভার প্রশাসনকে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এক নেতাও সেখানে চলে যান ঐ নারীর খোঁজ নিতে। পরবর্তীতে জানা যায়, এই নারী নিয়মিত নিজের চুল বিক্রি করে আয় করেন। এই খবর প্রচার হওয়ার আগেই তার কাছে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং খবরটি তিনি নিজে দেননি বরং তার কাছাকাছি থাকা অন্য এক মহিলা কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করার সময় কথাগুলো বলেন যা সেই বাড়ির একজন ফেসবুকে লেখেন। পুরো বিষয়টি নিছক গুজব ছাড়া আর কিছু ছিলো না।

গত বছরের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য গুজবের একটি, ‘পদ্মাসেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে। এর প্রতিটি পিলারে মানুষের মাথা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে এবং সেই জন্য ছোট বাচ্চাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ এই ছেলে ধরা গুজব এমন এক অবস্থায় পৌঁছায় যে এই ঘটনায় বাড্ডায় এক নারী গণপিটুনিতে মারা যায়।

এ ছাড়াও সার্বিক করোনা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে কোন ইস্যু নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষত ফেসবুক এবং ইউটিউবে শোনা যাচ্ছে বিভ্রান্তিকর সব তথ্য যা মূলত গুজব। আর এই গুজব মোকাবেলায় সঠিক তথ্য উপস্থাপনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়েবটিম।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এবং আওয়ামী লীগের ওয়েব টিমের সমন্বয়ক প্রকৌশলী তন্ময় আহমেদ বলেন, ‘মহামারীর সূচনালগ্ন থেকে মানুষকে সচেতন করে তুলতে মাঠ পর্যায়ে এবং ভার্চুয়াল জগতে সক্রিয় ছিলো আওয়ামী লীগ। দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হবার আগে থেকেই আওয়ামী লীগ অনলাইনে বিভিন্ন সচেতনতা কার্যক্রম চালায়। মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত ভিডিওগ্রাফি, তথ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করতে সরকারি নির্দেশনা, স্বাস্থ্য নির্দেশনা ও জরুরি সেবা প্রদানের তথ্য প্রচার করে আসছি আমরা। এ ছাড়াও সম্প্রতি সময়ে লকডাউন ও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম ও দিবসগুলো অনলাইনে ওয়েবিনারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভার্চুয়ালি সকলকে সংযুক্ত রাখার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

‘বিয়ন্ড দ্যা প্যানডেমিক’ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শোকের মাস আগস্টে বেশ কিছু ওয়েবিনারের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ওয়েবটিম। ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, সে সময় বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা, সেখান থেকে শেখ হাসিনার গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম এবং ২১ আগস্টে তাকে হত্যা চেষ্টাসহ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা করা হয় ওয়েবিনারগুলোতে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও সারা দেশে সম্মেলন ও মিছিলের বদলে অনলাইনে ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। একইভাবে ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয় শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে।

শুধু সেপ্টেম্বর মাসে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে এবং তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরতে আয়োজন করা হয় একাধিক ওয়েবিনার।

আওয়ামী লীগের স্টুডিও কার্যক্রম: আওয়ামী লীগের ওয়েব টিমের নতুন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখানে ওয়েব টিমের স্টুডিওতে তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, রাজনৈতিক স্মৃতিচারণ, ভিশন ২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান নিয়ে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে এই নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎকার গ্রহণ কার্যক্রম চলছে।

আওয়ামী লীগের উপকমিটির অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা: আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উপকমিটির ওয়েবিনার ও অনলাইন কার্যক্রমের টেকনিক্যাল সাপোর্ট এবং লাইভ অনুষ্ঠানগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে সম্প্রচার এবং অনুষ্ঠান পরবর্তী সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহের যাবতীয় কাজ করে যাচ্ছে সিআরআই এবং আওয়ামী লীগের ওয়েব টিম। এদের মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির একাধিক ওয়েবিনারে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ধরণের ওয়েবিনারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কূটনীতিকবৃন্দ। আন্তর্জাতিক উপকমিটির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটি, দুর্যোগ বিষয়ক উপকমিটি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপকমিটিসহ বেশ কিছু উপকমিটির ওয়েবনির এবং সকল উপকমিটির অনলাইন কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে এই ওয়েব টিম।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, টুইটার, ইউটিউব চ্যানেল সহ অনলাইনে থাকা যাবতীয় অফিসিয়াল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এই ওয়েব টিম।

মহামারীকালে ভার্চুয়াল কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েব টিম ও সিআরআই-কে ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবেলায় সরকারের সকল পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপক ভাবে প্রচারের পাশাপাশি করোনাকাল ও পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়ে অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠান ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’ আয়োজন করায় আমি এএলবিডি ও সিআরআই টিমকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানচ্ছি।’

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ওয়েব টিম ও সিআরআই-এর এই কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে বেশি আগ্রহ সকলের। বাংলাদেশের মানুষের হাতে হাতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। এরফলে মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে যেমন তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়া যাচ্ছে, তেমনি বিএনপি-জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী একটি শক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই অপশক্তির গুজব ও প্রোপাগান্ডার ফাঁদ থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে এবং এই অপশক্তিকে মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়েব টিম ও সিআরআই। সময়ের পরিক্রমায় আরো বড় পরিসরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আশা করছি ভবিষ্যতে সিআরআই-এর সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর আরো নিবিড়ভাবে তাদের এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।