অক্সফোর্ডের টিকা রপ্তানিতে সেরাম ইনস্টিটিউটকে ভারতের ‘না’

8
Social Share

জরুরিভাবে ব্যবহারের জন্য রোববার অক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদন দেয় ভারত। তবে আপাতত এই টিকা রপ্তানি করা যাবে না- এমন শর্তেই এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অক্সফোর্ডের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান।

বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়াল্লা বলেন, ভারতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোববার ভ্যাকসিনটি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। তবে এক্ষেত্রে তারা শর্ত দিয়েছে যে, সেরাম ইনস্টিটিউট আপাতত এই ভ্যাকসিন রপ্তানি করতে পারবে না।

তিনি জানান, এমনকি সরকার ছাড়া স্থানীয় বাজারেও এই টিকা সেরাম ইনস্টিটিউট বিক্রি করতে পারবে না বলেও শর্ত দিয়েছে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। করোনার ঝুঁকিতে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষিত রাখতেই দেশটি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে উল্লেখ করে পুনাওয়াল্লা।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্টাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদক ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো অক্সফোর্ডের এই টিকার ১০০ কোটি ডোজ কিনতে সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই টিকা পেতে সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশও।

চলতি বছর বিশ্বে করোনার যত ভ্যাকসিন উৎপাদিত হবে তার বেশিরভাগই যাবে ধনী দেশগুলোতে। এই অবস্থায় দরিদ্র দেশগুলোর শেষ ভরসা ছিল সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ডের টিকা। তবে ভারত এই টিকা রপ্তানির অনুমতি না দেওয়ায় দরিদ্র দেশগুলোকে টিকার প্রথম ডোজ পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে আরও কয়েক মাস।

সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা শুধুমাত্র ভারত সরকারকেই ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবো।’

তিনি জানান, ভারতের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে করোনার টিকার সমবণ্টনে ‘কোভ্যাক্স’ নামের যে উদ্যোগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স জিএভিআই ও সিইপিআই নিয়েছে তা আগামী মার্চ বা এপ্রিলের আগে শুরু হচ্ছে না।

পুনাওয়াল্লা জানান, ভ্যাকসিনের উদ্ভাবক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রেজেনেকাকে ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। আরেকটি চুক্তি রয়েছে নভোভ্যাক্সের সঙ্গে। এর বাইরে ‘কোভ্যাক্স’ উদ্যোগে ৩০ থেকে ৪০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের লক্ষ্যে চুক্তির প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিল সেরাম ইনস্টিটিউট। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রপ্তানির অনুমতি না দেওয়ায় এই চুক্তি পিছিয়ে যাবে।