হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয় : খালেদা

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না।

তবে দেশের কল্যাণ ও উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন আরো বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। বহুদলীয় গণতন্ত্রে পথ ও মতের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ’ রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা ছাড়া এ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। যারা ক্ষমতায় আছে এবং যারা সংসদের বাইরে আছে, সবাই মিলে এ পরিবর্তন আনতে হবে। সকলে মিলে একটি কার্যকর সংসদ আমরা দেখতে চাই। ’

গতকাল রবিবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন’-এর দাবিতে আয়োজিত জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে এই জনসভার আয়োজন করে বিএনপি।

দীর্ঘদিন পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ, অব্যাহত গুম-খুন, চালের মূল্য বৃদ্ধি, ক্ষমতাসীনদের বিদেশে টাকা পাচারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশের এই অবস্থা থেকে মানুষ পরিবর্তন চায়, এদের হাত থেকে মুক্তি চায়। আর এই পরিবর্তন ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। সে জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। খালেদা জিয়া জোর দিয়ে বলেন, যে নির্বাচনে নির্দ্বিধায় মানুষ ভোট দিতে যাবে; যাকে পছন্দ, তাকে ভোট দেবে—এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। হবে না। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিপুল করতালির মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সমর্থন জানায়। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ব্যাখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা স্থানীয় নির্বাচনগুলোকে দেখেন—চুরি করে, দুর্নীতি করে, এমনকি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনে খুলনায় আমাদের লোকদের নমিনেশন পেপার পর্যন্ত জমা দিতে দেয়নি। একই অবস্থা চিকিৎসক, শিক্ষকদের নির্বাচনগুলোতেও। সব নির্বাচনে তারা চুরি করে জিততে চায়। ’

গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘৭ নভেম্বর আমরা সমাবেশ করিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা দেয়নি। তবে আমরা বলেছি, সমাবেশ করবোই। অনুমতি দিতে হবে। আপনারা জানেন, জনসভা করার অনুমতি তারা দিয়েছে, কিন্তু জনসভা যেন সফল না হয়, জনগণ যেন আসতে না পারে, সে জন্য বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। জনগণ এখানে এসেছে কত দুর্ভোগ, কত কষ্ট করে!’

সরকারকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হোটেলগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাবলিক প্লেস বন্ধ করে সব যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমিও যেন আপনাদের সামনে এসে পৌঁছতে না পারি, সে জন্য আমার বাসা থেকে বেরোনোর পর গুলশানে বাস দাঁড় করিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হয়েছে। বাসে ড্রাইভার নেই, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যানজট তৈরি করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে। এই হচ্ছে এদের অবস্থা। এরা যে এত ছোট, আজকেও দ্বিতীয়বার প্রমাণ করে দিল। এত ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। আর করলেও জনগণ বা দেশের জন্য ভালো কাজ করা যায় না। ’

সরকার জনগণ ও বিএনপিকে ভয় পায় জানিয়ে বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ ৭ নভেম্বরকে ভয় পায়। আর জনগণকে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। মানুষকে ভয় পায় বলেই একদলীয় বাকশাল করেছিল তারা। এখন অঘোষিত বাকশালকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা জনগণের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কেউ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই উঠিয়ে নিয়ে যাবে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেবে। গত ১০টি বছরে কত অবিচার, জুলুম, অত্যাচার করেছে। জনসভা করতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেয়। আমাদের ছেলেদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি করছে। ’

‘আমি ক্ষমা করলেও জনগণ মানতে রাজি না’ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি বলেছি, আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দেব। জনগণ কিন্তু জানে, এরা কত অবিচার করেছে তাদের সঙ্গে। জনগণ সেটা মানতে রাজি নয়। তার পরও আমরা বলেছি। আমরা দেশের রাজনীতির জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। এর জন্য প্রয়োজন দেশে গণতন্ত্র থাকতে হবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে, কথা বলতে দিতে হবে, সুশাসন থাকতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু আজকে এগুলোর সবই অনুপস্থিত। যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলো প্রতিষ্ঠা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে না। ’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হয়, তাহলে সেনাবাহিনী মোতায়ন করতে হবে। আজকে নির্বাচন কমিশন কেন বলে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না, ইভিএম হবে। তার মানে তারা সরকার যা বলে সেটাই করতে চায়। কিন্তু আমি বলি, ইভিএম চলবে না। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে, টহলে দিয়ে সত্যিকারের ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই, সবাই যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারে। সে জন্যই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের কিছু কথা ইসির সংস্কারের জন্য বলে এসেছি। ইসিকে বলব, আপনারা সরকারের অন্যায় আবদার মানতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনারদের বলতে চাই, অবাধ নির্বাচন করার দায়িত্ব আপনাদের। ইভিএম বন্ধ করতে হবে। সেনা মোতায়েন করতে হবে। পুলিশ বাহিনীও থাকবে। কিন্তু হাসিনার গুণ্ডা বাহিনীর হাতে অবৈধ অস্ত্র। তারা মানুষকে খুন করছে। সেনা না দিলে হাসিনার গুণ্ডা বাহিনী কেন্দ্র দখল করবে, অত্যাচার চালাবে। এ দেশের মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেখিয়ে দেবে যে তারা জিয়াকে ভোলে নাই। তিনি আছেন মানুষের মনে। ’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘দেশের এত ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। আপনাদের শুদ্ধ করব। আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাব। ’

আওয়ামী লীগের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাব। বাধা দেবেন না। চ্যালেঞ্জ করছি, একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন, আমরাও করছি; দেখি কাদের কত লোক আছে। ’ তিনি বলেন, ‘জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা। ’

বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের। এর জন্য তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। রাস্তাঘাট বন্ধ রেখেছে। হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। ইট দিয়ে পুলিশের মাথা থেঁতলে দিয়েছে। অফিসগামী বয়স্ক লোকদের তারা দিগম্বর করেছে। এগুলো আওয়ামী লীগের চরিত্র। তারা তত্ত্বাবধায়কের দাবির জন্য সমুদ্রবন্দর দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছে। বাসে আগুন দেয় আওয়ামী লীগ। যাত্রীবাহী বাসে গানপাউডার দিয়ে আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। তাই আপনাদের বলব, নিরপেক্ষ একটা নির্বচান দিয়ে দেশের মানুষ কী চায় সেটা যাচাই করুন। ’ তিনি বলেন, ২০১৪ সালে কোনো নির্বাচন হয়নি। তাহলে কী করে এই সরকার বৈধ সরকার হতে পারে? তাদের সরকার ও সংসদ অবৈধ। এই সংসদে কোনো বিরোধী দল আছে?

এ সময় সমস্বরে উপস্থিত জনতা, ‘না’ বলে সমর্থন জানালে তিনি বলেন, যারা বিরোধী দল তাদের মন্ত্রীরা সরকারেও আছে, বিরোধী দলেও আছে। সুতরাং দেশে কোনো বিরোধী দল নেই।

খালেদা জিয়া বলেন, আজকে বিচার বিভাগের কী অবস্থা আপনারা দেখেছেন। প্রধান বিচারপতিকে পর্যন্ত জোর করে অসুস্থ বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে পাঠিয়ে শুধু নয়, এজেন্সির লোক পাঠিয়ে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন দেশে ফিরে আসতে। কিন্তু তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি কিছু সত্যি কথা বলেছিলেন; এই যে নিম্ন আদালত নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার, আবার জুডিশিয়ারির দিকেও তারা হাত বাড়াচ্ছে, একে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। তাহলে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে না। আজকে সেটাই সত্য হলো। কথা বললে যে দোষ—এটা আজকে প্রমাণিত হলো। তিনি সত্য কথা বলেছিলেন বিধায় তাঁকে আজকে বিদায় নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ সরকার দেশটা শেষ করে দিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০০৮ সালে আপনাদের কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজিতে চাল খাওয়াবে। আজকে ৭০ টাকা কেজিতে চাল খাচ্ছে কেন মানুষ, তার জবাব চায় এ হাসিনা সরকারের কাছে। জনগণ জানতে চায় কেন ১০ টাকার বদলে ৭০ টাকায় চাল? প্রতিটি সবজির দাম ৭০ টাকা কেজির কমে নয়। এ দুরবস্থায় মানুষ কিভাবে জীবন যাপন করবে? প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে চলছে। কেন? নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে যাতায়াত খরচও বেড়ে যায়। সে জন্য আজকে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সরকার কথা দিয়েছিল কৃষকদের বিনা মূল্যে সার দেবে। কিন্তু বিনা মূল্যে সার তো দেয়নিই, বরং আমাদের সময় যে দাম ছিল তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। কৃষককেও মারার ব্যবস্থা করেছে এরা। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান-চাল কিনছে না। ’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া নেই, আছে বিশৃঙ্খলা। ছাত্রলীগের মাস্তানি। তারা শিক্ষকের গায়ে হাত তোলে, নারীদের নির্যাতন-অত্যাচার করছে নানাভাবে। কখনো শুনিনি বাসে-ট্রাকে মেয়েদের ওপর অত্যাচার। তাদের গুম-খুনের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বিদেশিরা বলছে কতগুলো গুম-খুন হয়েছে তারা জানে। বিএনপির কত নেতাকর্মী গুম-খুন হয়েছে তাদের খুঁজে পাইনি। বিএনপি করে বলেই তাদের অপরাধ। ’ বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গত ১০ বছরে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার বেশি বিদেশে পাচার হয়েছে। এটা আমাদের হিসাব নয়, আমেরিকাভিত্তিক একটি কম্পানির হিসাব। প্রতি পদে পদে দুর্নীতি। পাচার করা বিপুল অঙ্কের টাকার খবর পানামা পেপারসে এসেছে। এই কেলেঙ্কারি নিয়ে দুদক কিন্তু কোনো মামলা বা কোনো তদন্ত করেনি। অথচ দুদক লেগে আছে আমাদের পেছনে। যার সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই তার পেছনে লেগে আছে। ’

খালেদা জিয়া আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে যারা এক বছরের বেশি বেকার থাকবে তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। সব ছাত্র-ছাত্রীর জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ ও মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সবার জন্য পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। সব শিক্ষিত ছেলের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থ করব। কৃষকদের কৃষি উপকরণ কম দামে দেব, ভর্তুকি দেব। তারা যে দামে ফসল উৎপাদন করবে সরকার তার চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনে নেবে। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে যাতে গ্রামের মানুষ শহরমুখী না হয়। ’

দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে জনসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশে বের হন খালেদা জিয়া। নেতাকর্মীদের ঢল ঠেলে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন তিনি।

১৯ মাস পর অনুষ্ঠিত খালেদা জিয়ার জনসভায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। সকাল থেকেই বাদ্য-বাজনা হাতে নিয়ে মিছিলে মিছিলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ফেস্টুন ও ব্যানার।

‘খালেদা জিয়ার মূলমন্ত্র, উদ্ধার করো গণতন্ত্র’, ‘এই মুহূর্তে দরকার, খালেদা জিয়ার সরকার’—এ ধরনের স্লোগান-সংবলিত ব্যানার জনসভায় আগতদের নজর কাড়ে। দুপুরের মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও পূর্বে মত্স্যভবন ও এর আশপাশ, উত্তরে রূপসী বাংলা হোটেল, পশ্চিমে শাহবাগ মোড় এবং দক্ষিণে টিএসসি চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেয়।

৭ নভেম্বর উপলক্ষে জনসভা হলেও ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমাবেশে শোডাউন করতে দেখা যায়। নানা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মঞ্চের চারপাশ থেকে খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে তারা। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ এক ঘণ্টার বেশি বক্তব্যজুড়ে ছিল একাদশ জাতীয় নির্বাচনের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও কিছু অঙ্গীকার।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পরিচালনায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, বরকতউল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন জনসভায়।

জনসভা উপলক্ষে সকাল থেকে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপকসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জলকামানের গাড়ি, প্রিজন ভ্যান রাখা হয়।

সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য : মির্জা ফখরুল ইসলাম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। দেশে খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হবে না। আগামী দিনে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২০১৮ সাল আওয়ামী লীগের বিদায়ের বছর। আগামী নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আমাদের নেত্রী সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে রূপরেখা দেবেন। ’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দলকে ২৩টি শর্তে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণ আগামী দিনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *