আবাসন খাতে রাজস্ব জটিলতা থাকবে না : নজিবুর রহমান

আবাসন শিল্প খাতে রাজস্ব সংক্রান্ত জটিলতা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আবাসন খাতের সমস্যার সমাধানে এনবিআর রিহ্যাবে সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। ইতোমধ্যে এনবিআর এ খাতের ৮টি সমস্যা চিহ্নিত করেছে।এসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে এই খাতে রাজস্ব সংক্রান্ত কোন জটিলতা আর থাকবে না।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে পূর্বানী হোটেলে ‘রিহ্যাব-এনবিআর’ যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন ও পারভেজ ইকবাল, রিহ্যাব ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভুইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা হলো দেশে যেসব সম্ভাবনাময় শিল্প রয়েছে সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া। সেই মোতাবেক এনবিআর আবাসন খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছে। প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেওয়া হবে; যাতে এ শিল্পের অমিত সম্ভাবনা কাজে লাগানো যায়।
এনবিআর বৃত্তের বাইরে গিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নিজেদেরকে বৃত্তের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। জনগণের কাছে আমাদের সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এর অংশ হিসেবে গত পয়লা বৈশাখ রাজস্ব হালখাতা করা হয়েছে।আয়কর মেলায় নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মেলায় প্রথমবারের মত কর বাহাদুর পরিবার সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
রিহ্যাবের সহযোগিতা চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। এই আইন বাস্তবায়নে আগামী দুই বছর রিহ্যাব-এনবিআর যৌথভাবে কাজ করবে। যৌথভাবে প্রশিক্ষণ বা কর্মশালা আয়োজন করা হবে।নতুন ভ্যাট আইন সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেন জটিলতা না থাকে এ জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
নজিবুর রহমান বলেন, কর ব্যবস্থাপনায় আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করছি। সামরিক শাসন আমলে জারি করা বর্তমান কর আইন বা অধ্যাদেশ সংস্কার করে গণমূখী নতুন আয়কর আইন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতে এই আইন হচ্ছে। নতুন আয়কর আইনের ক্ষেত্রে রিহ্যাবের কোন পরামর্শ থাকলে, আপনারা লিখিতভাবে দিতে পারেন। এতে আবাসন খাতের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরে নজিবুর রহমান বলেন, পল্লী উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।এর মধ্যে পল্লী আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন অন্যতম। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রিহ্যাব কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল বলেন,আবাসন খাতের জন্য সেকেন্ডারি বাজার ব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজন। এর জন্য রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমাতে হবে।সেকেন্ডারি বাজারে সর্বমোট রেজিস্ট্রেশন খরচ তিন শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।
তিনি জানান, প্রতিবছর ১৫ থেকে ১৭ হাজার ফ্ল্যাট হস্তান্তর হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। সেকেন্ডারি বাজার থাকলে রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংসদ সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, আবাসন খাতের উন্নয়নে করহার হ্রাস ও সরকারের নীতি সহায়তা বাড়াতে হবে। অর্থের অভাবে অনেক নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যথার্থ গৃহঋণ না থাকায় বিক্রিত ফ্ল্যাটের রিপ্লেসমেন্ট হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, উচ্চ রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের ফলে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে। এজন্য রাজস্ব আয়ও কম হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় এ খাতকে এগিয়ে নিতে রেজিস্ট্রেশন ব্যয় ও গেইন ট্যাক্স কমানো, সেকেন্ডারি বাজার তৈরি এবং স্বল্প সুদে বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানান তিনি। শাওন বলেন,রেজিস্ট্রেশন ব্যয় সাড়ে ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ছয় শতাংশ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *